নিমন্ত্রণে
মোঃ গিয়াস উদ্দীন খান
ইন্সট্রাক্টর (বিজ্ঞান) পিটিআই, সিলেট।
তোমার বাড়ি গিয়েছিলাম
তোমার নিমন্ত্রণে।
তোমার দেখা পাইনি তবে,
দেখা বধূর সনে ॥
আম্বিকাপুর গ্রামটি তোমার
কুমার নদীর পাড়ে।
ঘন সবুজ চারদিকেতে
রাখছে তারে ঘিরে ॥
গাঁয়ের একটু উত্তরেতে
সূর্য দীঘল মাঠ।
তারি একটু উজানেতে
সুজন বেদের ঘাট ॥
বাড়ির সামনে প্রতি বছর
বসে জসিম মেলা।
জারি-সারি পালাগান আর
রংবেরঙ্গের খেলা ॥
পায়ে হেঁটে পাড়ি দিলাম,
আঁকাবাকা পথ
গ্রীলে ঘেরা করব দেখে
থামল আমার রথ ॥
বাড়ির ভেতর গিয়ে দেখি
ছোট সেখর খানি।
তল্লা বাঁশের বেড়া আর
লালচে টিনের ছানি ॥
আম বাগানের মাঝখানেতে
ঘরটি তোমার খাড়া।
নারিকেলের চিরল পাতায়
চারদিকেতে ঘেরা ॥
কথা ছিল বন্ধু তুমি
বসতে দেবে পিড়ে
জল পান করতে দেবে
শালি ধানের ছিড়ে ॥
ঘরের ভিতর গিয়ে দেখি
বধু তোমার বসে।
খাটের পাশে বসতে দিল
একটু মৃদু হেসে ॥
পিঁড়ির বদল খাটের পাশে
বসতে দিল ঠাঁই।
হাত বুলিয়ে বলল আমায়
কেমন আছো ভাই ॥
শিকে তোলা বোয়াম হতে
তুলে নিজের হাতে
ঘরে তৈরী আমের আঁচার
দিল আমায় খেতে ॥
মৌরী ফুলের গন্ধে মাতাল
হল না আর মন,
সবাই আছে নাইরে শুধু
আমার আপন জন ॥
চুপটি করে শুঁয়ে আছো
ডালিম গাছের তলে
চেয়ে দেখো বন্ধু তোমার
ভাসে নয়ন জলে ॥
আমন্ত্রণে এসেছিলাম
না পেয়ে তোমায়।
বুকের ভেতর মুছড়ে উঠে
চোখ ভরে কান্নায় ॥
দোয়া করি প্রভুর কাছে
ওগো দয়াময়
বন্ধু যেন পরজনমে
জান্নাতবাসি হয় ॥
এজনমে নাই-বা পেলাম
এসে নিমন্ত্রণে
পরজনমে আবার দেখা
হবে তোমার সনে ॥
পিটিআই তে একটি বছর
ওয়াজিহ উদ্দিন
রোল - ৯৭
পিটিআইতে একটি বছর
কেমনে হল পার?
মনের মাঝে নানান স্মৃতি
উঠছে বারে বার।
প্রথম যেদিন এসেছিলাম
অচেনা সব লাগছিল
কে হবে ভাই কোন্ মেজাজের
এসব মনে জাগছিল।
মাস দুয়েকের মধ্যে যখন
শিক্ষা সফর শেষ
ধীরে ধীরে সবার মাঝে
উঠল জমে বেশ।
সবাই যেমন এক ফ্যামিলির
হয়ে একাকার
ক’দিন পরে চলে গেলে
কে পায় দেখা কার?
প্রয়াস
মোঃ শহীদুর রহমান
রোল - ১১৩
প্রয়াস তুমি জ্ঞানের মশাল
দাও বিলিয়ে আলো
তোমার সুবাস পেতে মোদের
লাগছে কত ভালো।
প্রয়াস তুমি বছর ঘুরে
ফিরে আস তাই
হৃদয় খোলা সম্ভাষণ
তোমাকে জানাই।
প্রয়াস তোমার আতœ-প্রকাশ
সফল যেন হয়
সব পাঠকের হৃদয় যেন
করতে পার জয়।
আমার স্বপ্ন
মোঃ নিয়ামত আলী
রোল - ১৭২
আমার যতো স্বপ্ন আছে
এদেশটাকে নিয়ে
সকল স্বপ্ন পূরণ হবে
সোনার মানুষ দিয়ে।
স্বপ্ন নিয়ে বুকের মাঝে
এদেশটাকে গড়বো
সোনার মানুষ নিয়ে আমি
দেশের জন্য লড়বো।
সোনার দেশে সোনার মানুষ
মুক্ত পরিবেশ
বিশ্ব মাঝে উঁচু হয়ে
থাকবে আমার দেশ।
সুখের নীড়
রোমানা পারভীন
রোল - ১৫৯
জন্মেছি এই বাংলাদেশে
ভাবতে লাগে বেশ
মাঠে মাঠে সোনা ফলে
মুক্ত স্বাধীন দেশ।
মুক্তিযোদ্ধার অবদান তো
হয় না কভূ শেষ
লক্ষ লক্ষ প্রাণের দামে
কেনা বাংলাদেশ।
তাই এসো আজ সবাই মিলে
গড়ি সুখের নীড়
এই পৃথিবীর সবাই জানুক
বাঙ্গালীরা বীর।।
বাংলা আমার প্রাণ
মোঃ ফরিদ আহমদ
রোল - ১৬৫
বাংলায় আমি হাসি খেলি
বাংলায় কথা বলি,
বাংলা আমার পথের দিশা
বাংলার পথে চলি।
আমার কাব্য বাংলার ছোয়ায়
খুঁজে পায় যে ভাষা,
বাংলা নিয়ে চিরদিন মোর
বুকভরা কত আশা,
বাংলার জলে মূর্ছিত ধরা
ফিরে প্রায় নব,
বাংলাতে তাই কবিতা লিখি
বাংলাতে গাই গান।
আমার প্রাণের যত শান্তি
বাংলায় খুঁজে পাই,
বাংলার গান গেয়ে তাই
বাংলায় মরতে চাই।
ভাদ্রের তাল পাকা দুপুরে
কুলছুমা বেগম
রোল নং ১৩৯
ভাদ্রের তাল পাকা দুপুরে
চারদিকে যেন নিস্তব্ধতার ছোঁয়া।
ঘরে বাইরে মানুষের নেই তেমন আনাগোনা
ক্ষেত খামারে সবাই ব্যস্ত
সোনার ফসল ফলাতে এইতো ভাবনা।
মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কৃষকের দিন যায় অক্লান্ত পরিশ্রমে।
কখনো ঝিমু ঝিমু রোদ কখনো আকাশে হালকা মেঘের আবির্ভাব।
সকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়
তাদের নেই কোন বিশ্রাম।
সারাদিনের কঠোর খাটুনিতে
তাদের শরীর হয় দুর্বল
হেমন্তের নতুন ধানের মৌ মৌ গন্ধের আশায়
মনে থাকে তাদের মহাবিল।
ভাদ্রের কাজ নিয়ে সর্বদা তারা অশান্ত ও চঞ্চল॥
শেখ মুজিবের ডাকে
হাফছা বেগম
রোল - ৮৭
স্বাধীন হলাম আমরা সবাই
শেখ মুজিবের ডাকে
ভাষণ শুনে যুদ্ধে যাবে
বলল খোকা মাকে।
হলাম স্বাধীন মুক্ত হাওয়ায়
রইল কথা ফাঁকে
রাজাকারের হয়না বিচার
দুঃখ বলি কাকে।
আমরা জানি যায়না ঢাকা
মাছকে কবু শাকে
রাজাকারকে ঘৃণা করো
রাখো দূরে তাকে।
আসুক বাধা করব লড়াই
আমরা ঝাকে ঝাকে
দেখবো এবার কারা তাদের
বুকের উপর রাখে।
মনে পড়ে
জাহানারা আক্তার
রোল - ৩২
চলে যাচ্ছি আজ
মনে পড়ে তোমাকে
কি কষ্ট কি যন্ত্রণা
তার পরে ও হাসি
কারণ তুমি
ঐহিহ্যবাহী প্রশিক্ষণকেন্দ্র
তোমার তুলনা অতুলনীয়
জন্ম দিয়েছ দেশের শেষ্ঠ কারিগরদের
দেশকে করেছ উজ্জ্বল
মনে পড়ে তোমাকে।
একটি কথা
মেরিনা জামান
রোল - ৭১
একটি মেয়ের একটি কথা
শুনবে যদি এসো
সে কথাটি শুনতে হলে
চুপটি করে বসো।
লেখা পড়ার কাজটি করে
তোমরা হলে বড়
দেশ গঠনে এগিয়ে যেতে
তখন হবে জড়।
সৎ সন্তান হয়ে সবাই
করবে দেশের ভাল
সোনার দেশে উঠবে জ্বলে
নব আশার আলো।
সকল দেশের সেরা হবে
মোদের এদেশ ভাই
মূর্খ্য দিয়ে হবে না কাজ
বিদ্যা শেখা চাই।
নানান ভালোবাসা
শ্রী কালিপদ চক্রবর্ত্তী
রোল - ৫০
ফুল চায় ভালোবাসা লতায় পাতায়
পাখি চায় ভালোবাসা গাছের শাখায়।
পশু চায় ভলোবাসা অরণ্যের কাছে
শিশু চায় ভালোবাসা সবার কাছে।
মানুষ চায় ভালোবাসা স্বদেশেতে ,
নদী চায় ভালোবাসা প্রবহমান স্রোতে ।
পাহাড় চায় ভলোবাসা ঝর্ণা সিক্ত হয়ে
নারী চায় ভালোবাসা স্বামীর বলয়ে।
ভূমিকম্প
শিল্পি রাণী বিশ্বাস
রোল নং ৪২
কাঁপছে চেয়ার কাঁপছে টেবিল
কাঁপছে আমার শোয়ার খাট,
বুড়ো দাদুর মাথার মতো
কাঁপছে ফ্যানের নাট।
কাঁপছে দেয়াল ফ্রিজ টিভি আর
ছিটকে পড়ে বইগুলো সব
উল্টে গেল আলনা।
উপছে পড়ে এ্যাকুরিয়াম
মাছ গুলো যায় থমকে,
হঠাৎ কেন বাঁকা মেঝে
আমি উঠি চমকে।
কার ঈশারায় ঘরবাড়ি সব
দিল হঠাৎ লম্ফ,
বলল বাবা ‘জলদি এসো
হচ্ছে ভূমিকম্প’।
প্রশ্ন?
কলি বেগম
রোল নং ১৮৮
মানুষ
‘‘প্রশ্রয় দিলে, মাথায় ওঠে
সমাদর করলে, ঘুরে বসে
উপকার করলে, অস্বীকার করে
বিশ্বাস করলো, ক্ষতি করে
সুখের কথায়, হিংসা করে
দু॥খের কথায় সুযোগ খোঁজে
ভালবাসলে আঘাত করে
স্বার্থ ফুরালে কেটে পড়ে’’
এটাই কি চরিত্র হওয়া উচিত?
আমি চাই না
লতিফা নার্গিস
রোল ০৬
আমি চাই না সেই জীবন
যা এলোমেলো পথ ভ্রষ্ট,
আমি চাই না সেই পৃথিবী
যেখানে মানুষগুলো নির্মম চিরনষ্ট।
আমি চাই না পেতে সেই শিক্ষা
যা অন্ধত্বকে জাগ্রত করে না।
আমি চাই না কাছে যেতে সেই মানুষের
যারা স্বার্থপর, বেঈমান,
আমি চাই না সেই প্রিয়জনকে
যে ভালোবাসাকে করে অপমান।
আমি চাই না কোন সুন্দর ফুল
যা গন্ধহীন কাটায় পরিপূর্ণ,
আমি চাই না দেখতে সেই স্বপ্ন
যা বাস্তবে হয়ে যায় শূন্য।
স্বাধীনতা
মাহমুদা বেগম
রোল নং ১৮৯
স্বাধীনতা মানে মুক্ত আকাশ
শূন্যে মেলা ডানা
স্বাধীনতা মানে অসীম স্বপ্ন
দেখতে নেই মানা।
স্বাধীনতা মানে স্বপ্নে ঘেরা
সুস্থ্য পরিবেশ
স্বাধীনতা মানে সবাই মিলে
ভালবাসি এই দেশ।
অজানায় তুমি
মনিকা রায়
রোল নং ১৮৩
জানি না শেষ কবে তুমি
সূর্যের আলোয় স্নান করেছ;
কবে গোধূলির আলোয়
আলতা রাঙা পা ভিজিয়েছ
জানি না শেষ কবে তুমি
সমুদ্রের ঢেউয়ের ছন্দের সাথে
নুপুরের তাল মিলিয়েছ
জানি না কবে শেষ হয়ে গেছে
তোমার চুড়ির রিনিঝিনি
তুমি কি আগের মত ইউক্লিপটাস
গাছের নিচে বসে পড়
শেষের কবিতা
তুমি কি এখনও বসন্তের দিনগুলো কাটাও
শিমুল পলাশের খোঁজে।
তুমি কি জানো এখনও আমি
ম্লান হওয়া আলোর মধ্যে তোমাকে খুঁজি।
কষ্টের সিড়ি বেয়ে হিমালয়ে উঠি,
কান্নার নদী বেয়ে সমুদ্রের অতলে ডুবি।
কোথায় তুমি?
সাহেদা আক্তার মণি
রোল নং ১৯১/৬৮০
বহুদিন পর তোমার জন্য চোখ ঝাপসা হল
বাধ ভেঙ্গে জোয়ার এল নয়ন জুড়ে।
কেমন আছ তুমি,
যতটুকু চাই তারও বেশি ভালো তো?
তোমাকে মনে পড়ে ঠিকই।
কিন্তু অশ্র“তে ভাসিনি অনেক দিন।
জীবনের পথ চলি নিবৃত্তে, নীরবে।
একে একে কেটে যায় দিন, মাস, বছর।
দিনে দিনে বেড়ে চলে দূরত্ব
আমি জানি না কেন জীবনের এই রূপ বদল?
কেন ভালোবাসতে হলে জল ঝরাতে হয় চোখে?
আঘাতের পর আঘাত সয়ে কষ্টের পাহাড় গড়ে ওঠে বুকে।
আমি চোখ বুজে এখনও তোমার ছবি আঁকি।
চোখ মেলে এখনও আমি তোমায় খুঁজি।
কোথায় তুমি কত দূরে?
কেন? জল ঝরে দুঃচোখে বেদনার সুর।
সপ্তবর্ণা পিটিআই
নার্গিস বেগম
রোল ১২৪/৬১৪
কি দিয়ে তোমার করব তুলনা?
অক্সফোর্ড নাকি ক্যালিফোর্নিয়া।
তোমার তুলনা তুমি নিজেই,
হে সিলেট পিটিআই।
তোমার শ্যামল মমতাময়ী স্পর্শে,
আমরা হারিয়ে যাই এক কল্পনার ছন্দে।
সহকর্মী আর শিক্ষকেরা যেন মোদের অতি আপনজন
কোনদিন ছিড়বেনা সে যে হৃদয়ের বন্ধন।
মোদের অন্তরে বাজছে একই সুর, একই ধ্বনি
আলোকিত করব মোরা শাহ্ জালালের পূণ্যভূমি।
জ্ঞানের আলোতে ভরিয়ে দেব অন্ধকারের পাথার
ঝিলমিলিয়ে উঠবে সেথা বৃষ্টিমুখর আষাঢ়।
তোমার পরশপাথরে জ্বলে উঠবে শত কোটি প্রদীপ
জ্বলজ্বল করবে ভূ-গোলকের মাঝে পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ
স্বপ্ন দেখায় ভালোলাগায় মিশে আছ তুমি
স্তব্ধ রঙ্গিন আলো আভায় থাকবে চিরদিনই।
হয়ত বা সময়ের প্রয়োজন যাব তোমায় ছেড়ে
তোমার আবেশ সারাজীবন থাকবে আমায় ঘিরে।
জড়িয়েছে আমাদেরকে।
সপ্তবর্ণা পিটিআই তুমি,
চিরঅম্লান হৃদয়ের খোলা আকাশে।
বিদায় মালা
জেবুন্নাহার
রোল নং ১৯৬/৬৮৫
এসেছিলে তোমার জ্ঞানের মাঠে আলোর মিছিলে,
ভোরের আকাশে তারা ফুটেছে, পূর্বাকাশ ফর্সা হয়েছে,
তোমাদের আলোর মিছিল স্বার্থক হয়েছে ॥
জরা জীর্ণ - কুসংস্কার দূরীভূত আজ।
নৈতিকতার হাতছানি তোমাদেরকে ঘিরে,
বিজয় তোমাদের, বিজয় তোমাদেরকে ঘিরে আমাদের।
তোমাদের আলোর মিছিলে আজি আমরাও চলছি-চলবো।
জয় ধ্বনি আজ তোমাদেরকে নিয়ে,
পরিবর্তন শুধু তোমাদেরকে দিয়েই সম্ভব।
কোমল হাতের স্পর্শ দাও,
জেগে উঠুক সজীবতায় এ বিশ্ব।
আলোর মিছিল থামিও না Ñ
সারা বিশ্বে পৌছে যাক তোমাদের স্লোগান।
নৈতিকতার সভ্যতা গড়ে উঠুক।
মুক্তিপাক নৈতিকতার অবক্ষয় আজকের এই দুনিয়ার
তোমাদের বিদায় মুক্তির বিদায়, সমাজ গড়ার বিদায়,
বিশ্ব পরিবর্তনের বিদায়।
তোমাদের বিদায় অধিকার আদায়ের বিদায়Ñ
তোমাদের বিদায় মননশীল মানুষ গড়ার বিদায়Ñ
তোমাদের বিদায় আমাদের প্রাপ্তির পথ সুগমÑ
এগিয়ে চলো, তোমাদের সাথে ছিলাম থাকবো ॥
জ্ঞান সমুদ্র স্নাত হও, শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দাও,
অন্ধকার দূর হোক, মুক্তি পাক অধিকার,
শুভ বিদায়, শুভ হোক অনন্তকাল ॥
কর্মফল
হারুন আহমদ
রোল - ১৪২
জন্ম তব যেথায় হোক
কর্ম যদি ভাল হয়,
সর্বজন ভজিবে তোমায়
গুণীজনে কয়।
আতরাক কুলে জন্মে যে জন
করে ভাল কাজ,
নিন্দিবেনা কেহ তাহায়
বরণ করবে সমাজ
আশরাফ কুলে জন্মে যেবা
যদি হয় কুজন,
নিন্দিবে সকলেই তাহায়
না করবে ভজন।
কর্ম গুণেই কর্মফল
পাবে সকলে,
কর্মই তোমায় বলে দেবে
কোন বংশে এলে।
কর্মফল ভাল হলে
হবি নন্দিত
মন্দ ফলে সমাজে তুমি
হবে নিন্দিত ॥
অন্বেষণ
এলিজা আক্তার
রোল নং ৬২
আমি বাবার চোখে খুঁজি
আদর মিশ্রিত শাসনের ভাষা
আমার মায়ের চোখে খুঁজি
শুধুই স্নেহ মমতা।
আমি বড় ভাইয়ের চোখে খুঁজি
দায়িত্ব আর কর্তব্যের চাহনী
আদরের ছোট বোনের চোখে খুঁজি
একরাশ সরলতা।
আমি ছাত্রের চোখে খুঁজি
নতুন কিছু জানার অদম্য স্পৃহা
শিক্ষকের চোখে খুঁজি
অশেষ জ্ঞানের বৃষ্টি।
আমি নিরক্ষরের চোখে খুঁজি
কেন আমি নিরক্ষর? এরকম প্রশ্ন
শিক্ষিত বেকারের চোখে খুঁজি
একটি চাকুরী পাবার স্বপ্ন।
আমি পৃথিবীর মাঝে খুঁজি সুখ,
প্রয়োজনের মাঝে খুঁজি বাস্তবতা
জীবনের মাঝে খুঁজি প্রেম,
হৃদয়ের মাঝে খুঁজি উদারতা।
আমি মরণের মাঝে খুঁজি
বেঁচে থাকার আশা
জানি মৃত্যু চিরন্তন সত্য
তবু করি এ দুরাশা ।
বিদায়ের সুর
রেজিয়া খানম
রোল নং - ১৮১
আর কি হবে দেখা?
পিটিআইতে দেখেছিলাম
কত লোকের মেলা
অচেনা অজানা সব
হলো আপন
দুদিন পর হয়ে যাবে
সবাই আবার পর
স্মৃতির জালে মাঝে মাঝে
হয়তো ভাসবে মনে
প্রয়াস নামের ম্যাগাজিন বই
যখন নিব হাতে
অনেক কিছুই ভুলে যাব
তবু থাকবে মনে
যাদের নিয়ে মেতোছিলাম
বন্ধু সমাগমে।
আমার দেশ
ফাতেহা সুলতানা
রোল নং ৮৩
সফল হয়েছে আমার
এই দেশেতে জন্মে
সফল হয়েছে আমার
দেশকে ভালবেসে
ভুলবনা এই দেশের কথা
ছাড়বনা এই দেশের মায়া।
এই দেশেরই হাসি খুশি
এই দেশের আনন্দ।
এই দেশেরই সোনার মাটি
থাকুক তব জীবন ভরি।
মোদের পণ
সেলিনা আক্তার
রোল - ৯৪
মেয়ে বলে ঘরের কোণে
বসে মোরা থাকবো না।
কুসংস্কারের বেড়া জালে,
আটকে মোরা রইব না।
অন্ধাকারে জ্বালিয়ে আলো,
ছুটবো মোরা সম্মুখপানে।
মোদের মনকে পড়বো এবার
পূণ্য নগরের সত্য ধ্যানে।
এগিয়ে যাব সবাই আজ;
দুঃসাহিক অভিযানে
থাকতে আর চাইনা মোরা
ছোট্ট এক ঘরের কোণে।
ইভ টিজিং
মোঃ জুবেরুল ইসলাম জুবায়ের
রোল - ১৯
দাঁড়াও একটু দাঁড়াও!
ঐ ভিড়ের মধ্যে যাকে লক্ষ্য করে,
হাতটি বাড়িয়ে দিয়েছ,
একবার ভালো করে চেয়ে দেখ?
তোমার বোনের মুখটি কি দেখা যায় না?
তার নিষ্পাপ অবয়ে।
শার্টের বোতাম খুলে, গলায় চেইন পরে,
রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে শিস দেয়া,
ডিজিটাল ফ্যাশন তোমার?
ট্রেনে, বাসে, রাস্তার ভিড়ের ভিতরে
হায়েনার মতো থাবা মারা।
ডিজিটাল ফ্যাশন তোমার?
কোমলমতি কিশোরীদের প্রতি,
অশ্লীল বাক্যবান ছুড়ে দেয়া,
স্মার্টনেস তোমার?
ধিক, ধিক, শতধিক জানাও
ধিকৃত এই ফ্যাশন স্মার্টনেস কি
আলোর পথে একবার ফিরে তাকাও।
হৃদয়ের আয়নার সেই মুখ
হোসনে আরা
রোল নং ৪৯৭
হৃদয়ের আয়নায় আজ একটি মুখ
বেশি ভেসে উঠছে।
আজ স্মৃতিবিজড়িত সেই মুখের হাসি
খুব বেশি মনে পড়ছে,
সেই হাসিতে এক অপূর্ব মায়া আছে
যে মায়া আমার হৃদয় আকাশে রংধনু ছড়িয়ে দেয়।
সেই মানুষটির মিষ্টি কথায়Ñ
আমার হৃদয়ের বাগান ফুলে ফুলে রঙিন হয়।
সেই ফুলের রংগুলো হতে পারে টুকটুকে লাল,
হতে পারে কোন লাল বেনারসি শাড়ির রং,
হয়তোবা লাল বেনারসিটি কারো জন্য
অনেক যতœ করে রাখা হয়েছে।
আকাশের দিকে তাকালে কোন তারার মাঝে
আমি সেই মায়াবী মুখখানি দেখতে পাই,
জোছনা ঢাকা স্বচ্ছ নদীর পানিতে
ভেসে উঠে তাঁর নিষ্পাপ মুখের হাসি,
তাঁর মিষ্টি মুখের দীপ্ত চাহনী
আমার পথ চলার অনুপ্রেরণা ॥
আমি জানি সে আমাকে খুব ভালবাসে,
আমিও তাকে অনেক ভালবাসি।
সেই মিষ্টি মায়াবী মুখখানি আমার মায়ের
সেই ‘‘আমার মা’’ সে রয়েছে আমার সমস্ত অস্তিত্ব জুড়ে।
‘‘মা’’ তোমাকে আজ খুব বেশি মনে পড়ছে,
যতদূরে থাকি না কেন, তুমি আমার হৃদয়ের আয়নায় বন্দী,
সে খানেই তোমাকে যতœ করে রাখব চিরদিন ॥
বিজয়ের আগমনে
রাহেলা বেগম
রোল নং ১৩০
বিজয় তোমার আগমনে
স্মৃতির পাতায় ভাসে সে কথা
সেদিন বাংলার মুক্তি পাগল জনতা
দামাল ছেলেরা, ছাত্ররা, কৃষকরা
মায়ের বুক ছেড়ে
বাবার নিষেধ উপেক্ষা করে
বোনের কাকুতি
স্ত্রীর সোহাগ ভুলে
যোগ দিয়েছিল মুক্তিযুদ্ধে।
এদেশের নিরপরাধ জনগণের উপর
সেই কালো হাত ভেঙ্গে দিতে
এগিয়ে গেল ত্রিশ লক্ষ ফুল
উড়ে গেল জানোয়ারদের বুলেটে
সব কটি স্বর্গীয় আত্মা
এদের রক্তে বাংলায় উদয় হল রক্তিম সূর্য
প্রতিদানে পেলাম বিজয়।
কবিতা লেখার বিকালটা
নীলিমা চৌধুরী
রোল - ২৩
সুন্দর বিকেল সোনা রোদ করে খেলা
বসে বসে কবিতা লিখব ভাবছি একলা,
কলমটা হাতে ধরে
ডায়রিটা মেলে রেখে,
ভাবছি লিখব কার কথা।
তখন কৃষ্ণচূড়ার ডালে বসল একটা পাখি
তাকে দেখে আমি মুচকি মুচকি হাসি।
চশমাটা চোখে দিয়ে
প্রকৃতির দিকে তাকিয়ে,
ভাবছি লিখব তার কথা,
এমন সময় দেখি
বাগানের ফুলের গাছে ভ্রমরটা মধু খায়
এসব দেখে ভাবি আমিও কিছু খাই।
এভাবেই শেষ হল বিকেলটা
লেখা হল না আমার কবিতাটা।
মহাবীর মুক্তিযোদ্ধা
আমির উদ্দিন
রোল - ৩৯
ওরা কেড়ে নিতে চেয়েছিল আমাদের অধিকার
ছিনিয়ে নিতে চেয়েছিল মায়ের ভাষা,
হরণ করতে চেয়েছিল মা বোনের ইজ্জত
করতে চেয়েছিল তাদের পদানত
তুমি বাংলার বীর
তোমার রক্তে মিশে আছে তিতুমীর
শিরা উপশিরায় বইছে সিরাজুদ্দৌলা।
তুমি ভয় করনি রক্ত চক্ষু
ভেঙ্গে দিয়েছে হিংস্র থাবা
পরাধীনতার নাগপাশ ছিড়ে এনেছ স্বাধীনতা
আশা ছিল হবে সোনার বঙ্গ
হে মহাবীর মুক্তি যোদ্ধা।
স্বাধীনতা কি?
শেলন আক্তার
রোল - ১০০
স্বাধীনতা জিনিসটা কি
শাসন নাকি আসন?
মঞ্চে উছে মিথ্যাবাদীর
বক্তৃতা আর ভাষণ!
স্বাধীনতার মানেটা কি
কালো টাকার পাহাড়?
দীন দুঃখীরা পায়নি খেতে
দু’মুঠো রোজ আহার।
এই যদি হয় স্বাধীনতা
চাইনা তবে এমন
ভেঙ্গে ফেলো এই অনিয়ম
হোকনা করে যেমন।
জীবন মানে
সঞ্জয় কুমার চন্দ
রোল - ৭৮
জীবন মানে বিঘœ বাধা
জীবন মানে জয়
জীবন মানে কাঁন্না হাসি
জীবন মানে ভয়।
জীবন মানে চাওয়া পাওয়া
জীবন মানে সুখ
জীবন মানে সব কিছুতে
কাঁন্না এবং দুঃখ।
জীবন মানে জয় পরাজয়
জীবন মানে আশা
আশার মধ্যে লুকিয়ে থাকে
শত ভালোবাসা।
স্বাধীনতা তুমি
দিবস কুমার দাস
রোল ৬০
স্বাধীনতা তুমি জাতির সংগ্রামী চেতনা
২৫ শে মার্চ কালরাত্রিতে
মেশিন গান, স্টেন গান আর কামানের শব্দ হয়েছিল
সেদিন,
মনে হয়েছিল রোজ কিয়ামত বুঝি সন্মুখীন,
মা তার ছেলেকে, বোন তার ভাইকে
অশ্র“ সজল নয়নে পাঠিয়েছিল রণক্ষেত্রে
আমরা কি ভূলিতে পারিব তাদের ঋণ
না, না, না, ভুলিব না তাদের কথা
যত দিন পৃথিবী থাকিবে
ততদিন ইতিহাসের পাতায় লিখতে থাকবে
তাদের নাম।
মা
মারিয়া বেগম
রোল নংÑ ৮১
বহু দিন হয় দেখতে না পাই
মাগো তোমার মুখ,
দুঃখে আমার দিন কাটছে
নেইকো মনে সুখ।
অসুখ হলে কেমন আছ
কইতে পারি না,
কষ্ট বুকে দেয় যে পীড়া
সইতে পারি না।
দিন রাত্রি কেমন কাটে
নাহি বলতে পারি,
বলো মাগো তোমায় ছাড়া
কভু চলতে পারি ?
মাতৃভাষা
চামেলী চক্রবর্ত্তী (হেপী)
রোল নং - ৪৫
বাংলা আমার মাতৃভাষা
বাংলা আমার প্রাণ
মনে আমার বাজে শুধু
তোমারি জয়গান ॥
বাংলা ভাষায় কথা বলি
বাংলা ভাষায় লিখি
বাংলা ভাষায় শ্লোগান দিয়ে
মিছিল মিটিং করি
বাংলা আমার প্রিয় ভাষা
বাংলা আমার মা
বাংলা ভাষা না থাকলে
কিছুই হত না ॥
ভাবের পদাবলি
তাহমিনা সুলতানা
রোল নংÑ১৯৩
লোকেতো আমারে বলে
কেমন আছ
ভালো আছ তুমি ?
আমিও কেবলই ভাবি
কেমন আছি আমি!
আমি সন্দেহ করি
আমি অবহেলা করি
আমি সমুদ্রে যাই ভেসে
আমার মুক্তি মিলবে কিসে
পিরিতের জলসাগরে যাব
প্রণয়ের জল-সাগরে যাব
এ হয়তো অলক্ষ্য নিয়তি
পরে থাক বিশ্বচরাচর
সব নিয়ে এখন আর ভাবি না।
পরিত্যক্ত কাগজ
নুরুন্নাহার ফৈরুজ
রোল নংÑ ১৪০
একটি ছেড়া পরিত্যক্ত কাগজ
একটি মলিন কাগজ,
তার প্রতিটি ভাঁজে ভাঁজে
রক্তের স্রোত লুকিয়ে আছে।
একটি ছেড়া মলিন কাগজ
তার প্রতিটি অক্ষরে অক্ষরে
দৃঢ়তার পরিচয় মেলে,
এই দৃঢ় থাকা প্রতিজ্ঞ থাকা
শুধুমাত্র-শুধুমাত্র দেশের তরে।
একটি ছেড়া মলিন কাগজ
এর প্রতিটি লোমকূপে জড়িয়ে
ছড়িয়ে আছে এক চেনা নিঃশ্বাস
এ নিঃশ্বাস বার বার থেকে থেকে
কথা বলে যায়।
একটি ছেড়া মলিন কাগজ
এ কাগজের প্রতিটি ভাঁজে ভাঁজে
ভালোবাসার স্ফূট-অস্ফূট রোমঞ্চ,
ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হয় বার বার।
একটি ছেড়া মলিন কাগজ
বলে যায় কেঁদো না মা-
তোমার মাটিকে কলুষিত হতে দেব না,
একটি ছেড়া মলিন কাগজ
অতঃপর নিঃস্তব্ধ।
গতিপথ
সুলতানা বেগম
রোল - ১৭৯
ক্ষুদ্র এক জীবনে
পলে পলে বয়ে গেছে কত
কাল বৈশাখীর ঝড়
তবু কেড়ে নিতে পারেনি জীবনের শাশ্বত গতিপথ
যত ঝড় বয়ে গেছে তা কেড়ে নিয়েছে
অপাংক্তেয় পাতাগুলি।
বয়ে গেছে শুধু চির জাগরুক প্রাণ
ঝড়ে নিঃস্ব রিক্ত হয়ে জেগে
উঠেছে আপন সত্তার নিজ অভিমান
হে নিষ্ঠুর প্রকৃতি, তুমি সব কেড়ে নিতে পারো
নিতে পারো না শুধু অমৃত প্রাণ
যতদিন আছে এর বেঁচে থাকার স্বাদ।
তুমি যতবার নিঃস্ব করতে এসেছ আমায়
ততবারই আমি জেগে উঠছি যেন নতুন
আত্মবিশ্বাসে, প্রতিটি নিঃশ্বাসে
নিয়ে অফুরন্ত অম্লজান।
জ্ঞান পিপাসু পাখিরা সব
মোঃ ফয়জুল হক
রোল - ০৭
পিটিআইয়ের গুলবাগিচায় উড়ে আসা
এক ঝাঁক জ্ঞান পিপাসু পাখি,
তাঁদের পদচারণায় আর মধুর গুঞ্জনে
জুড়াত দু’টি আখিঁ ॥
আদর্শ কারিগর গড়ার লক্ষে আলোর দিশারীরা
বিলিয়েছেন যত জ্ঞান,
সে পথ অনুসরণ করে শ্রেণীকক্ষে মোরা দিব
আদর্শ পাঠ দান ॥
২০১০ সাল এসেছিল মোদের মাঝে
মিলনের বার্তা নিয়ে,
জীবনের প্রতিটি অধ্যায় রচিত হল
স্মৃতির কলম দিয়ে ॥
বছর শেষে ভেঙ্গে দিল
পাখিদের গুঞ্জন মেলা,
ভাবিতে পারিনি কবু অশ্র“ ঝরবে
আজকের বিদায় মেলা,
ভাবিতে পারিনি কবু অশ্র“ ঝরবে
আজকের বিদায় বেলা ॥
ট্রেনিং পিরিয়ডে দেখা হত
অনেক প্রিয় মুখ,
যাঁদের মাঝে খুঁজে পেতাম
আপন জনের সুখ ॥
জ্ঞান সমুদ্র ছেড়ে পাখিরা আজ
যাচ্ছে অনেক দূর,
বন্ধন হারা বিরহের সূর
বাঁজছে হৃদয় জুড়ে ॥
